Header Ads Widget

header ads

মীরসরাই (Mirsharai)

 মীরসরাই উপজেলার পটভূমি

 


চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলা ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ১৯১৭ সালের ১৫ জুলাই প্রতিষ্ঠা হয়। ঐ সালের ২১ সেপ্টেম্বর গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর ১৯১৮ সালের ১ জানুয়ারী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মীরসরাই থানার কার্যক্রম চালু হয়।

 


নামকরণ ও প্রাসাঙ্গিক ইতিহাসঃ


১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খিলজীর বঙ্গদেশ জয়ের পর বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসার বহুলাংশে বৃদ্ধি পায় । অবশ্য অষ্টম শতকেই চট্টগ্রামে আরব দেশের বণিকদের আগমণ ঘটে । চট্টগ্রাম অঞ্চল বন্দর , পাহাড় , নদী-সাগর ও উর্বর ভূমি এবং প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়াতে বিদেশিদের মনযোগ আকর্ষণ করে। তাছাড়া দূর ও নিকট প্রাচ্যের দেশগুলোতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে মাধ্যম হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর বিশেষ পরিচিতি পায়। আরবীয় বণিকদের সাথে সাথে ধর্ম প্রচারকদের আগমণের ফলে চট্টগ্রামের সামাজিক রাজনৈতিক ,অর্থনৈতিক ও সাংস্কূতিক ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার ঘটে ধর্ম প্রচারক সুফী সাধকগনের মাধ্যমে । চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে তা আরো বেশি প্রযোজ্য । এখানে উলেস্নখ্য যে , মধ্যযুগে ভারতবর্ষে ধর্মের আবির্ভাবের প্রাক্কালে নিমণবর্ণের হিন্দুরা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বর্ণ-বৈষম্য ও অর্থনৈতিক যাঁতাকলে পড়ে নিষ্পেষিত হচ্ছিল । উচ্চ বর্ণের ব্রাহ্মণদের হাতে নির্যাতিত হিন্দুরা মুক্তির পথ খুঁজছিল । এসময় নবাগত ইসলাম ধর্ম সকলের সামনে মুক্তি ও সৌভাগ্যের দরজা খুলে দেয়। দলে দলে মানুষ ইসলাম ধর্মের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় লাভ করে । ভারতবর্ষের বৌদ্ধরা ও নির্যাতত হয়ে ক্রমশ: আরাকানের বৌদ্ধ শাসিত চট্টগ্রামের দিকে সরে আসছিল । ভারতবর্ষের সামাজিক , সাংস্কূতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অসহনীয় ও অস্থির এই প্রেক্ষাপটে মুসলমান ব্যবসায়ী ও সৈন্যদের সাথে মুসলিম ধর্মপ্রচারকগণ চট্টগ্রামে আগমণ করেন। অমায়িক ব্যবহার , সেবাধর্মী মনোভাব , ধৈর্য-সহিষতা , খোদাভত্তি ও ভীতি সাধারণ মানুষের মনে গভীর আগ্রহ সৃষ্টি করে। এখানকার স্থানীয় মানুষ দলে দলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। পীর দরবেশগণ চট্টগ্রামে মসজিদ , মক্তব ও খানকাহ প্রতিষ্ঠা করে ধর্মীয় প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন করেন। ঐতিহাসিক ড. আবদুল করিম বলেন ‘ বাংলায় মসজিদ স্থাপনের পর থেকে মুসলমানরা একটি সামাজিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হন। ’ ঐতিহাসিকদের অভিমত , ১২২০ খ্রিস্টাব্দের পরবর্তী ২/২’শ বছরে যেখানে ৩ লাখ মুসলমান বসবাস করতো সেখানে ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দে সে সংখ্যা দাঁড়ায় দেড় কোটির ওপর । চট্টগ্রামের ক্ষেত্রেতে এ পরিসংখ্যান আরো বেশি প্রযোজ্য। ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পূর্ববাংলা ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্গম ও অধিক অনুন্নত । তাই এখানে ইসলাম প্রচার একটু বেশি দেরিতেই হয়। চট্টগ্রামে ইসলাম প্রচার ও এখানে মুসলমানদের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে আরো দেড়’শ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল । সড়কপথে চট্টগ্রামে যাওয়ার কোন পথ ছিল না । অসংখ্য নদী- ছড়ায় পরিপূর্ণ অঞ্চলটি বছরের পুরো সময় পানিতে তলিয়ে থাকতো । তাছাড়া চট্টগ্রাম শত শত বছর ধরে আরাকানী মগদের শাসিত ছিল এবং ত্রিপুরার সাথে প্রায়ই যদ্ধবিগ্রহ লেগে থাকতো । সমুদ্রপথ ও ছিল ভীতিকর । আরাকানী জলদস্যুর অত্যাচারে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ ছিল দিশেহারা । চট্টগ্রাম অঞ্চল সত্যিকার অর্থেই ছিল ‘মগের মুলস্নুক’। এমন পরিস্থিতিতে প্রখ্যাত সুফী হযরত বদর শাহ চট্টগ্রামে আসেন ও ইসলাম প্রচারে নিয়োজিত হন। তাঁর সাথে এসে যোগ দেন বেশ ক’জন আউলিয়া-দরবেশ, যারা বার আউলিয়া নামে পরিচিত হয়। কিন্তু আরাকানী মগ শাসিত চট্টগ্রামে ইসলাম প্রচারের পরিবেশ মোটেও অনকূল ছিল না । নানা বাধা-বিপত্তি ও অত্যাচার নির্যাতন চলে নবদীক্ষত মুসলমানদেন ওপর। হযরত বদর শাহ (রঃ) ইসলাম প্রচারের প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপন করে বাংলার সুলতান ফখরম্নদ্দীন মোবারক শাহ (১৩৩৮-৫০) কে চট্টগ্রামে অভিযান পরিচালনার আহবান জানান। সুলতান সে আহবানে সাড়া দিয়ে সেনাপতি কদল খানকে চট্টগ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন ও আরাকানী সৈন্যদের বিতাড়িত করেন। গাজী উপাধিতেক ভূষিত হন সেনাপতি কদল খান। কিন্তু মুসলমানদের প্রথম চট্টগ্রাম বিজয় নিয়ে কোন ঐতিহাসিক তথ্যাদি পাওয়া যায়না । চট্টগ্রাম বিজয়ের প্রায় তিন’শ বছর পর চট্টগ্রামের কবি মোহাম্মদ খান তাঁর মক্তুল হোসেন কাব্য রচনা করেন। সেই কাব্যে নিজের বংশ মর্যাদার কথা লিখতে গিয়ে কবি মোহাম্মদ খান লিখেছেন-


এক মনে প্রণাম করম বারে বার


কদল খান গাজী পীর ত্রিভুবন সার।।


যার রণে পড়িল অক্ষয় রিপুদল


ভএ কেহ মজ্জিগেল সমুদ্রের তল।।


এক সর মহিন হৈল প্রাণ হীন


রিপু জিনি চাটিগ্রাম কৈলা নিজাধীন।।


কবি পুসত্মকের আকার বৃদ্ধি পাবার আশংকায় চট্টগ্রাম বিজেতা কদল খান গাব্দী, শায়খ শরীফ উদ্দিন ও বদর আলম অর্থাৎ হযরত বদর শাহ .......



ভৌগলিক পরিচিতি


 চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলা ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ১৯১৭ সালের ১৫ জুলাই প্রতিষ্ঠা হয়। ঐ সালের ২১ সেপ্টেম্বর গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর ১৯১৮ সালের ১ জানুয়ারী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মীরসরাই থানার কার্যক্রম চালু হয়।



মীরসরাই উপজেলা প্রায় ২২০-৩৯/ ও ২২০-৫৯/ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১০-২৬/ ও ৯১০-৩৮/ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এর উত্তর ও পশ্চিমে ফেনী নদী, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী উপজেলা ও সন্দ্বীপ চ্যানেল, দক্ষিণে সীতাকুন্ড এবং পূর্বে পাহাড়ী এলাকা ও ফটিকছড়ি উপজেলা। 



Post a Comment

0 Comments