Header Ads Widget

header ads

মোহনগঞ্জ (Mohongonj)

 মোহনগঞ্জ উপজেলার পটভূমি

ভাটি বাংলার রাজধানী বলে জনশ্রুত নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলা একটি প্রাচীন জনপদ। মোহন সাহা নামে একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর নাম অনুসারে এই শহরের নাম করণ করা হয় বলে জানা যায়। ভাটিবাংলার রাজধানী খ্যাত প্রশাসন মোহনগঞ্জ থানা গঠিত হয় ৬ এপ্রিল ১৯২০ সালে। ১৯৮২ সালে উপজেলায় রুপান্তরিত করা হয়। ব্রিটিশ শাসন আমল থেকেই মোহনগঞ্জ ছিল ধান, পাট, মাছ, সরিয়ার উলে­খযোগ্য ব্যবসাকেন্দ্র । এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৯২৫ খ্রিঃ মোহনগঞ্জ রেল স্টেশন নির্মাণ কাজ গুরু হয়।  ১৯২৮ খিঃ রেল চলাচল গুরু হয়। বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার ০৭/০৮ টি উপজেলার রাজধানীর সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মোহনগঞ্জ সর্বাধুনিক গুরুত্ববহ শহর । বর্তমানে বাজধানীর সাথে ঢাকা-মোহনগঞ্জ রুটে বি.আর.টি.সি. সহ ০৪/০৫টি পরিবহণ সংস্থার বাস সার্ভিস চালু রয়েছে।

মোহনগঞ্জ পৌরসভা ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এবং ১ম শ্রেণীর পৌরসভা হিসাবে স্বীকৃতি পায় ২০১৬ সালে। পৌরসভাটিতে ০৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। পৌরসভায় অবকাঠামোগত উন্নয়নে সম্ভাবনা অপার। জলপথে অর্থনৈতিককর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে মোহনগঞ্জ সমধিকার সম্ভাবনার একটি উপজেলা । মোহনগঞ্জ পৌরসভার বুক চিঁড়ে প্রবাহিত শিয়ালজানি খাল দিয়ে এক সময় ধান, পাট বোঝাই বড় মাপের নৌকা চলাচল করত।  সময়ের বিবর্তনে খালটি আজ বিলুপ্ত প্রায় ।  খালটি আশু সংস্কারের ব্যবস্থা গুহীত হয়েছে। শিক্ষা , ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে মোহনগঞ্জ অনন্য সাধারণ ঐতিহ্য বহন করছে। 

মোহনগঞ্জ স্বীয় মহিমায় প্রতিষ্ঠি একটি অমীয় সম্ভাবনার উপজেলা।

 
ভৌগলিক পরিচিতি

এই বাংলাদেশের উত্তর পূর্ব কোণে সাবেক ময়মনসিংহ এবং বর্তমান নেত্রকোণা জেলার পূর্বপ্রান্ত ও সুনামগঞ্জ জেলার পশ্চিমপ্রান্তে অবস্থিত ভাটি এলাকার একটি উপজেলার নাম মোহনগঞ্জ। মোহনগঞ্জের উত্তর পূর্ব ও দক্ষিনে শুধু হাওড় আর হাওড়। যে কারণে মোহনগঞ্জ পৌর শহর হাওর অঞ্চলের রাজধানী হিসাবে খ্যাত। ‘গোয়াল ভরা গরু, বিল ভরা মাছ, গোলা ভরা ধান’ কিংবা ‘যে দেশেতে শাপলা শালুক ঝিলের জলে ভাসে’ এসব উক্তির সার্থক রূপ নিজের চোখে দেখতে হলে, আপনাকে অবশ্যই ছুটে আসতে হবে অসংখ্য খাল-বিল, নদ-নদী আর হাওড়-বাওড় পরিবেষ্টিত মোহনগঞ্জের ভাটি এলাকায়।

 

বৈচিত্রময় প্রাকৃতিক পরিবেশ, বিপুল বৃক্ষরাজির সবুজ ঘনপল্লবে সুশোভিত বিখ্যাত ডিঙ্গাপোতা হাওড় সহ অসংখ্য খাল-বিল, নদী-নালা পরিবেষ্টিত ডাহুক,  কুড়া, সরালী, পানকৌড়ী, ঘুঘু, দোয়েল, কোকিলসহ অসংখ্য পাখির কুজনে মুখরিত এ উপজেলার পশ্চিম ও উত্তর দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে কংশ নদ, পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ধনু নদ এবং দক্ষিনের কিছু অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সাতমা ধলাই নদী। এর মাঝখানে ২৪৩.২০ কিমি (৯৩.৯০ বর্গমাইল) আয়তন বিশিষ্ট এ মোহনগঞ্জ উপজেলা। মোহনগঞ্জের উত্তেরে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলা, পূর্বে জামালগঞ্জ উপজেলা ও নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলা। দক্ষিণে ও পশ্চিমে নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া ও বারহাট্টা উপজেলা। এ উপজেলায় আছে একটি প্রথম শ্রেণীর পৌর শহর ও ০৭টি ইউনিয়ন। ১২৮টি মৌজাভুক্ত ১৮২টি গ্রামে ২০১১ সালের আদশ শুমারী অনুযায়ী লোকসংখ্যা পুরুষ ৮৪,২২৩ জন এবং মহিলা ৮৩,২৮৪ জন। মোট ১,৬৭,৫০৭ জন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রতিবছর শতকরা ১.০৫ জন। ১৯৯৬ সালের উপজেলা নির্দেশিকা জরিপ অনুযায়ী এ উপজেলায় মোট ভূমির পরিমাণ ২৪,২৬৩ হেক্টর। এর মধ্যে উত্তর পশ্চিমাংশে ব্রহ্মপুত্র পললভূমি ১০,৩৬০ হেক্টর এবং দক্ষিণ পূর্বাংশে সুরমা কোশিয়ারা পললভূমি ১৩,৯০৩ হেক্টর। ব্রহ্মপুত্র পললভূমি উপক্ষেকৃত উঁচু ও মাঝারী উঁচু। এবং সুরমা কোশিয়ারা পললভূমি বিলাঞ্চল এখানকার মোট জমির মধ্যে প্রায় ২,০০০ হেক্টর বশতবাড়ি। বাকি জমির মধ্যে প্রায় ১৫,০০০ হেক্টর বিলাঞ্চলের নিচু ভূমি। এসব জমিতে বছরে একবার বোর ফসল উৎপাদিত হয়। বাকি জমিতে রোপা আমন ও অন্যান্য শাক-শব্জির আবাদ হয়। খাদ্যে উদ্বৃত্ত এ উপজেলায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৫৯০ জন লোক বাস করে। জনসংখ্যার অনুপাতে মাথাপিছু জমির পরিমাণ প্রায় ০.১৯ হেক্টর।

 

অবস্থান: ২৪°৪৫´ থেকে ২৪°৫৫´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৫৫´ থেকে ৯১°০৭´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। উত্তরে নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলা ও সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলা, পূর্বে নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলা ও সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলা এবং পশ্চিমে নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া উপজেলাবারহাট্টা উপজেলা

 

Post a Comment

0 Comments