বামনা
হতে প্রায়
কিলোমিটার দূরে অবস্থিত
উপজেলা।
উত্তরে
দক্ষিণে
পূর্বে
এবং পশ্চিমে
পরিবেষ্টিত
উপজেলার কার্যক্রম শুরু হয়
সালে।
এই উপজেলার আয়তন প্রায়
বর্গকিলোমিটার।
২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায় এই উপজেলার মোট জনসংখ্যা:
জন (প্রায়) যার মধ্যে
জন পুরুষ এবং
জন মহিলা
উপজেলা প্রশাসনের অধীনে
টি গ্রাম এবং
টি ইউনিয়ন বিদ্যমান।
ইউনিয়ন সমূহ হলো:
১.
২.
৩.
৪.
৫.
৬.
৭.
উপজেলার বুক জুড়ে এঁকেবেঁকে বয়ে গেছে
নদী সমূহ।
উল্লেখযোগ্য স্থাপনা এবং বিখ্যাত স্থানসমূহ হলো:
১.
২.
৩.
৪.
৫.
৬.
ইত্যাদি।
উপজেলার পটভূমি
বামনা উপজেলার ইতিহাস খুঁজে জানা যায় ১৮৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত পিরোজপুর মহকুমার আওতায় সুবৃহৎ থানা ছিল মঠবাড়ীয়া। মঠবাড়ীয়া ছিল বাকেরগঞ্জ জেলার অমত্মর্গত। ১৯১৩ সালের কোন এক সুন্দর সকালে মঠবাড়ীয়া থানার একাংশের চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় বামনা থানা। থানার কার্যক্রম ১৯৬১ সাল পর্যমত্ম চলতে থাকে একটি জাহাজের উপর অবস্থিত জল থানায় । সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে বামনা পূর্ণাঙ্গ থানার রূপপ্রাপ্ত হয়। ১৯৬৯ সালের ১লা জানুয়ারী বরগুনা মহকুমা সৃষ্টির পর বামনা পিরোজপুর মহকুমা থেকে বরগুনা মহকুমায় অন্তর্ভূক্ত হয়। ১৯৮৩ সালে বামনা উন্নীত থানা থেকে উপজেলার মর্যাদা লাভ করে। ১৯৮৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী বরগুনা জেলার জন্ম হলে বামনা বরগুনা জেলার অন্তর্গত থেকে যায়। উত্তরে ঝালকাঠী জেলার কাঠালিয়া উপজেলা, পশ্চিমে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া উপজেলা, পূর্বে বরগুনা জেলার বেতাগী ও বরগুনা উপজেলা এবং দক্ষিণে পাথরঘাটা উপজেলা ঘিরে রেখেছে বামনা উপজেলাকে। পশ্চিমে হলতা নদী ও পূর্বে বিষখালী নদীর উপকূলে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে বামনা। প্রকৃতির উজাড় করা সম্পদ-সম্ভ্রারে সমৃদ্ধ হবার অপরিমেয় সম্ভাবনা নিয়ে বামনার দীর্ঘ প্রতীক্ষা প্রত্যাখিত হচ্ছে উপর্যুপরি প্রাকৃতিক দুর্যোগে। ১৯৬১, ১৯৬৫, ১৯৭০, ১৯৯১ এর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস এবং ২০০৭ এর সিডর ও ২০০৯-এর আইলার আঘাত বার বার দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে বামনাকে।
বিষখালী নদীর করাল গ্রাসে মূল বামনা মৌজাটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেলে বামনার বর্তমান থানা সদর ১৯৬৪ সালে সফিপুর গ্রামে স্থানান্তরিত হয়। বামনার অতীত ইতিহাস আর ঐতিহ্য নিমজ্জিত হয়েছে বিষখালীতে । বিষখালীর ভাঙ্গনে বামনা থানা, হাসপাতাল, তহসীল অফিস, হাইস্কুলসহ বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী স্থাপনার পূর্বতন অবস্থান নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে । এখন যে সকল স্থাপনা দেখা যায় তা হল ১৯৬৪ সালের পর নির্মিত।
বামনার নামকরণ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কারও মতে শফি মাহমুদ চৌধুরী কর্তৃক নির্মিত কালী মন্দিরের ব্রাহ্মণ পুরোহিত কীর্তি চরণ মুখপাধ্যায়কে স্থানীয় লোকজন ব্রাহ্মণ শব্দের অপভ্রংশ বামনা হিসেবে ডাকত। তার ডাক নামানুসারেই বামনা নামের উৎপত্তি হয়। কারও মতে তৎকালীন সুন্দর বন এলাকার আওতাভুক্ত বিষখালী নদী দিয়ে বাওয়ালীরা নৌকায় যাতায়াত করত । এক সময় বামন নামক কোন এক বাওয়ালী নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হলে তার নামানুসারে বামনা নাম করণ হয়। কারও মতে একদল মৌলবাদী পর্যটক ধর্ম প্রচারের জন্য এখানে আসেন এবং ধর্ম প্রচার শুরু করেন। কিন্তু বেশীর ভাগ লোকই বামপন্থী মনা হওয়ায় তাদেরকে ধর্মের দিকে আকৃষ্ট করতে পর্যটক দল ব্যর্থ হয়ে এলাকার মানুষকে বাম মনা উপাধি দেয়। এই বাম+মনা থেকেই বামনা শব্দের উদ্ভব হয়। আরও প্রসিদ্ধ প্রচলন রয়েছে যে, চীন দেশ থেকে চেং ইয়াং নামে এক নাবিক পাঁচটি সম্প্রদায়ের লোক এবং কিছু যন্ত্রপাতি ও পশু -পাখি নিয়ে জাহাজ চালিয়ে এখানে এসে বর্তমান চেঁচানে নামেন । চেঁচান নামটি প্রধান নাবিক চেং ইয়াং-এর নামানুসারে হয়েছে। এই পাঁচটি সম্প্রদায়ের মধ্যে এক দল ছিলেন ব্যবসায়ী যারা বাণিজ্যের লক্ষ্যে এসেছিলেন, এক দল ছিলেন কৃষিজীবী যারা কৃষি কাজ করতেন, এক দল ছিলেন নাবিক যারা জাহাজ বা নৌকায় পারাপার ও পরিবহনের কাজ করতেন, এক দল ছিলেন রাখাল যারা পশু পালন ও চারন করতেন এবং এক দল ছিলেন ব্যায়ামবিদ যারা নিরাপত্তা ও যুদ্ধ-বিগ্রহের দায়িত্ব পালন করতেন। ইংরেজীতে এ পাঁচ সম্প্রদায়ের নাম হল ব্যবসায়ী = Businessman যা থেকে B, কৃষিজীবী= Agriculturist যা থেকে A, নাবিক = Mariner যা থেকেM, রাখাল= Nomad যা থেকে N এবং ব্যায়ামবিদ= Acrobat যা থেকে A । এই সম্প্রদায়গুলোর নামের পাঁচটি আদ্যাক্ষর দিয়ে B+A+M+N+A= BAMNA যা বাংলায় বামনা নামকরণ করা হয়।
ঐতিহ্যগতভাবে বামনার যথেষ্ট সুনাম ও সুখ্যাতি রয়েছে। বাকেরগঞ্জের ভূগোলে লেখা হয়েছে, ‘‘বামনা ভদ্র লোকের বাসস্থান’’। বামনায় অনেক বর্ধিষ্ণু পরিবারের বাস ছিল । যতদূর জানা যায় সফি মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন প্রথম জমিদার। আর একজন জমিদার ছিলেন রাশ মোহন সাহা। সফি মাহমুদ চৌধুরীর দুই ছেলে হোসেন উদ্দিন চৌধুরী ও নায়েব উদ্দিন চৌধুরী। সফি মাহমুদ চৌধুরীর ভাইয়ের নাম ছিল সিদাম মিয়া চৌধুরী । সফি মাহমুদ চৌধুরীর বংশের সর্বশেষ পুরুষ ছিলেন ফখর উদ্দিন চৌধুরী; যিনি নাবালক সাহেব নামে পরিচিত ছিলেন। চৌধুরী বংশের জমিদারদের মধ্যে হোসেন উদ্দিন চৌধুরী ও সিদাম মিয়া চৌধুরী অত্যমত্ম জুলুমবাজ ও অত্যাচারী ছিলেন। সফি মাহমুদ চৌধুরী, নায়েব উদ্দিন চৌধুরী ও ফখর উদ্দিন চৌধুরীর প্রজা বাৎসল্য প্রসংশনীয়। ফখর উদ্দিন চৌধুরী অত্যমত্ম দানশীল ছিলেন এবং তিনি সাধারণ মানুষের সাথে সহজভাবেই মেলামেশা করতেন। বর্তমান সাহেব বাড়ী বাজার নামে পরিচিত এলাকাটি চৌধুরী পরিবারের বসতবাড়ী ছিল। চৌধুরী পরিবারের এক সমত্মান গোলাম ওয়াহেদ চৌধুরী পাকিসত্মান কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।
ভৌগলিক পরিচিতিঃ
বামনা উপজেলা বাংলাদেশের উপকূলীয় বরগনা জেলার একটি অন্যতম উপজেলা। বামনা উপজেলা রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৩৪০ কি.মি. দক্ষিণে এবং বরগুনা জেলা সদর হতে ২৮ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এ উপজেলার উপর দিয়ে পাথরঘাটা- চট্টগ্রাম, পাথরঘাটা- ঢাকা মহাসড়ক অতিক্রম করেছে।
আয়তনঃ
বামনা উপজেলার আয়তন ১০১.০৫ বর্গ কিলোমিটার (৩৯.০১ বর্গ মাইল) এবং ০১ (এক) টি পুলিশ ষ্টেশন, ০৪ (চার) টি ইউনিয়ন পরিষদ। মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৩৬ টি, গ্রাম ৪৯টি।
সীমানা:
উত্তরে ঝালকাঠী জেলার কাঠালিয়া উপজেলা, পূর্ব দিকে বরগুনা জেলার বেতাগী এবং বরগুনা উপজেলা। দক্ষিণে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলা এবং পশ্চিমে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া উপজেলা।
0 Comments